ভোক্তা ব্যয় ও জনসংখ্যা হ্রাস

উৎপাদন সংকটে চীনের বর্জ্য বিদ্যুৎ শিল্প

চীনে ভোক্তাব্যয় সংকোচন, জনসংখ্যা হ্রাস ও উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে উৎপাদন কমে যাচ্ছে বর্জ্য বিদ্যুৎ প্লান্টগুলোয়।

চীনে ভোক্তাব্যয় সংকোচন, জনসংখ্যা হ্রাস ও উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে উৎপাদন কমে যাচ্ছে বর্জ্য বিদ্যুৎ প্লান্টগুলোয়। মূলত পোড়ানোর জন্য যথেষ্ট বর্জ্য না পাওয়ায় সরবরাহ সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন উৎপাদকরা। খবর এফটি।

বছর দশক আগেও চীনে ক্রমবর্ধমান সমস্যা ছিল বর্জ্য। এ সমস্যা মোকাবেলায় দেশটিতে দ্রুত গড়ে ওঠে বড় বড় বর্জ্য পোড়ানোর প্লান্ট। গ্লোবাল ওয়েস্ট টু এনার্জি রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজি কাউন্সিলের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে চীনে হাজার খানেকের বেশি বর্জ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। এসব প্লান্ট সম্মিলিতভাবে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি বর্জ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতাসম্পন্ন।

অ্যানহুইভিত্তিক পরিবেশকেন্দ্রিক সংস্থা উহু ইকোলজি সেন্টারের সেক্রেটারি জেনারেল ঝাং জিংনিং বলেন, ‘চীনে দ্রুত নগরায়ণের পর অতিরিক্ত বর্জ্যের সমস্যা সমাধানে প্লান্টগুলো ছিল অপেক্ষাকৃত দ্রুত সমাধান। একটি বর্জ্য পোড়ানোর ইনসিনারেশন প্লান্ট তৈরি করতে দুই বছরের কম সময় লাগে।’

২০২২ সালে চীনের প্লান্টগুলোর বর্জ্য পোড়ানোর সক্ষমতা ছিল প্রায় ৩৩ কোটি ৩০ লাখ টন। একই সময়ে দেশটিতে সংগৃহীত ঘরোয়া ও শিল্প বর্জ্যের পরিমাণ ছিল ৩১ কোটি ১০ লাখ টন। প্লান্টগুলোর সক্ষমতা এখন আরো বেড়েছে। এখন দিনে ১১ লাখ টনের বেশি বর্জ্য পোড়াতে সক্ষম, যা সরকারের লক্ষ্যকে ছাড়িয়ে গেছে।

এ পরিস্থিতিতে দুটি প্লান্ট জানিয়েছে, তাদের কিছু ইনসিনারেটর বছরের অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে। অন্য দুটি বলেছে, তারা নির্মাণ ক্ষেত্রের বর্জ্য বা স্থানীয় সরকার থেকে বর্জ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। অ্যানহুই প্রদেশের একটি প্লান্টের কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্জ্য হ্রাসের প্রভাব পড়েছে প্লান্টের মুনাফায়।’

কিছু অপারেটর এতটাই বর্জ্য সংকটে পড়েছে যে তারা আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন থেকে বর্জ্য সংগ্রহকারী কোম্পানিকে বড় আকারের অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছে। কেউ কেউ বর্জ্য জমানোর পুরনো স্থানগুলো খনন শুরু করেছে।

হেবেই প্রদেশের শিজিয়াজুয়াংয়ের একটি বর্জ্য বিদ্যুৎ প্লান্ট বার্ষিক প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার টন বর্জ্য পোড়াতে পারে। কিন্তু তারা এখন পাচ্ছে ২ লাখ ৯০ হাজার টন বর্জ্য। প্লান্টের এক প্রতিনিধি জানান, তাদের তিনটি ইনসিনারেটরের একটি পুরো বছর বন্ধ থাকে। বর্জ্য সংকট প্রসঙ্গে চীনের জনসংখ্যা হ্রাস ও অর্থনৈতিক ধীরগতিকে উল্লেখ করেন তিনি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘জনসংখ্যা হ্রাসের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে বর্জ্যের পরিমাণ কমে। আগেও আমাদের প্রায় খুব আয় কম হতো। কিন্তু এখন বছরের পর বছর লোকসান গুনছি।’

প্লান্টগুলোর স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ ছিল। কারণ এগুলো ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ধোঁয়া উৎপাদন করে। বর্জ্য নির্গত তরল বা লিচেটস থেকে পরিবেশ ছড়িয়ে পড়তে পারে ভারী ধাতু। বর্জ্য পোড়ানোর পর তৈরি ফ্লাই অ্যাশ আগে নির্মাণসামগ্রীতে পুনর্ব্যবহার হলেও সম্পত্তি খাতের সংকটে এর চাহিদা হঠাৎ কমে গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বর্জ্য প্লান্ট থেকে ক্ষতিকর নিঃসরণ উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়েছে চীন। বর্জ্য পোড়ানো প্লান্টগুলো জমিয়ে রাখা বর্জ্য থেকে নিঃসৃত মিথেন কমানোর মাধ্যমে মোট গ্রিনহাউজ গ্যাস কমাতে সহায়তা করেছে।

চীনের পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের ১ হাজার ৩৩টি বর্জ্য বিদ্যুৎ প্লান্ট ২০২৪ সালে ১ কোটি ৩০ লাখ টন ফ্লাই অ্যাশ এবং পূর্ববর্তী বছরে ৬ কোটি ৩০ লাখ টন লিচেটস উৎপন্ন করেছে এবং উভয়ের বার্ষিক পরিমাণ ২০২০ সাল থেকে বেড়েছে। উৎপন্ন ফ্লাই অ্যাশের প্রায় ১৫ শতাংশ পুনর্ব্যবহার হয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলেছে, চীনের বর্জ্য বিদ্যুৎ প্লান্টের সংখ্যা ও আকার এখন প্রায় শীর্ষে পৌঁছেছে এবং নতুন প্লান্ট তৈরির গতি অনেক ধীরে গেছে। ভবিষ্যতে ফ্লাই অ্যাশ ও লিচেটস প্রক্রিয়াকরণ আরো উন্নত হবে।

২০১৭ সালে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কঠোর করে চীন। ওই সময় গৃহস্থালি বর্জ্য আলাদা করার নিয়ম প্রবর্তিত হয়। এ কারণে বর্জ্য পরিমাণ কমায় চীনের বর্জ্য সংকটের বিরুদ্ধে লড়াই প্রায় শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে দুটি প্লান্ট।

আরও